আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের করাচী শহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদত বরণকারী এক শিয়া শহীদের লাশ দাফন শেষে ফেরার পথে ‘লিয়াকত আবাদ’ নামক স্থানে আধা সামরিক সৈন্যরা উক্ত জানাযায় অংশগ্রহণকারী শিয়াদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, এতে ২ জন শিয়া শহীদ এবং অপর ২ জন আহত হন।
গত সপ্তাহের শুরুতেও ‘রাজাভিয়া সোসাইটি’ অঞ্চলে ১ জন শিয়া উগ্র ওয়াহাবীদের গুলিত শাহাদত বরণ করেন। এদিন শিয়ারা তাঁরই জানাযা দাফন শেষে ফিরছিল।
রাজাভিয়া সোসাইটি নামক শিয়া অঞ্চলে সরকারী ও আধা সামরিক সৈন্যরা হামলা চালালে করাচী শহরের অনেক অঞ্চলেই সংঘর্ষে বাঁধে। এ সকল সংঘর্ষে বিভিন্ন সংগঠন ও দলের ১৮ জন সদস্য নিহত হয়। এদের মাঝে ৪ জন শিয়াও রয়েছে। এ নিয়ে বিগত কয়েকদিনে নিহত শিয়াদের সংখ্যা ৭ –এ এসে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিয়াদের উপর হামলাকারী সৈন্যদের জন্য প্রত্যেকের জন্য পুরুস্কার নির্ধারণ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের শিয়ারা মনে করে যে, করাচীর শিয়াদের উপর হামলা পারাচেনারের শিয়াদের উপর হামলার দিনেই কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নির্দেশে চালানো হয়। সুতরাং যেভাবে কোয়েটা ও পারাচেনার শহরে সরকারী সৈন্যরা উগ্র তালেবান জঙ্গিদের সহযোগিতা করে শিয়াদের উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে, তারা করাচীর শিয়াদের উপরও একই করছে।
অনেকের মতে শিয়াদের উপর হামলাকারী সৈন্যদের অনেকেই তালেবান জঙ্গি বাহিনী’র সদস্য। যারা সরকারী সৈন্যদের ইউনিফর্ম ব্যবহার করে ‘রেঞ্জার্স’ বাহিনী’র কমাণ্ডারের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরের শিয়াদের উপর হামলার মূখ্য কারণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিছু জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন কোম্পানী ‘ব্লাক ওয়াটারে’র তত্ত্বাবধানাধীন সন্ত্রাসী ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বিষয়ক কয়েকট সংস্থা শিয়া বিরোধী এসব অভিযান পরিচালনা করছে। তবে সন্ত্রাসীরা তাদের পরিচালনাকারী নেতাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং সরকারী সৈন্যরা তালেবানসহ অন্যান্য নামধারী সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন অভিযানকে পরিপূর্ণ ও সফল করার উদ্দেশ্য তাদেরকে সহযোগিতা করছে।
অপরদিকে তালেবান জঙ্গি ও সরকারী বাহিনী কর্তৃক শিয়াদের উপর হামলা চালানোর সময় তাকবির ধ্বনি উচ্চারণের বিষয়টি সবাইকে অবাক করেছে। তাদের এ ধরণের আচরণের ফলে অসংখ্য প্রশ্ন জন সাধারণের মনে উত্থাপিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের শিয়া আলেমগণ এবং মুসলিম ঐক্য পরিষদ এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারী সৈন্যদের এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ সকল হামলাকে ‘সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।#